শনিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

সমুদ্রসীমা বিরোধে বাংলাদেশের পক্ষে রায়

আপডেটঃ ৯:৩৩ অপরাহ্ণ | জুলাই ০৮, ২০১৪

সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারতের সাথে বিরোধের ফলাফলে বাংলাদেশ জয়ী হয়েছে। আর এ জয়ে বাংলাদেশের মানচিত্রে যোগ হলো ১৯ হাজার ৪৬৭ বর্গকিলোমিটার জায়গা।

এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের (পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিট্রেশন-পিসিএ) রায় পর্যালোচনার পর মঙ্গলবার দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

মোট ২৫ হাজার বর্গকিলোমিটার জায়গা নিয়ে এ বিরোধ ছিলো।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের এই রায়ে উভয় দেশের সমুদ্রসীমা চিহ্নিত করেছে। উভয় রাষ্ট্রের বিজয় নিশ্চিত হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ও মুখপাত্র সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী সোমবার দুপুরে বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা মামলার রায় পিসিএ সোমবার ঘোষণা করেছে। রায়ের কপি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হাতে পেয়েছে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেদারল্যান্ডসের রাজধানী হেগে অবস্থিত স্থায়ী সালিসি আদালতে ২০১৩ সালের ৯ থেকে ১৮ ডিসেম্বর সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পক্ষে বাংলাদেশ ও ভারত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে।

শুনানি শেষে আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়, কার্যবিধির ১৫ ধারা অনুযায়ী, ছয় মাস পর এই দুই নিকট প্রতিবেশীর সমুদ্রসীমা নির্ধারণের রায় দেয়া হবে।

তিন দশকের বেশি সময় ধরে আলোচনার পর মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় ২০০৯ সালের ৮ অক্টোবর সালিসি আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ জার্মানির হামবুর্গভিত্তিক সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে (ইটলস) মামলা করেছিল। ২০১২ সালের ১৫ মার্চ ইটলস বাংলাদেশের পক্ষে রায় দেয়।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের মামলা করেছিল নেদারল্যান্ডসের স্থায়ী সালিসি আদালতে।

গত ১৮ ডিসেম্বর ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা মামলার শুনানি শেষ হয়। শুনানির ছয় মাসের মধ্যে রায় ঘোষণার কথা জানায় স্থায়ী সালিশি আদালত। অমিমাংসিত সমুদ্রসীমা নিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে মামলা চলার পর রায় পেয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। দুই দেশের জলসীমা শুরু হবে কোত্থেকে, সেটাই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরোধের মূল বিষয়।

এ ছাড়া ভূমিরেখার মূল বিন্দু থেকে সমুদ্রে রেখা টানার পদ্ধতি নিয়েও মতবিরোধ ছিল। সালিশি আদালত দুই দেশের উপস্থাপিত যুক্তিতর্ক এবং মেমোরিয়াল ও কাউন্টার মেমোরিয়াল বিবেচনা করে রায় দিয়েছে।

প্রতিবেশী দুটি দেশের মধ্যে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আলোচনা শুরু হয় ১৯৭৪ সালে। এর পর প্রায় আড়াই দশক দুদেশের মধ্যে এ আলোচনা থেমে থাকে।

দীর্ঘ বিরতির পরে আবার সমুদ্রসীমা বিরোধের আলোচনা শুরু হয় ২০০৮ সালের শুরুতে। কিন্তু আলোচনার পরেও অগ্রগতি না হওয়ায় সালিশি আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।