বৃহস্পতিবার ২৩শে মে, ২০১৯ ইং ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

আর কোনো রোহিঙ্গা নেওয়া সম্ভব নয়-জাতিসংঘে বাংলাদেশ

আপডেটঃ ২:৩০ পূর্বাহ্ণ | মার্চ ০২, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা আর কোনো রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয় বলে জাতিসংঘকে জানিয়েছে বাংলাদেশ।বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে একথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক।রয়টার্স ও চ্যানেল নিউজ এশিয়ার খবরে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে এই কাউন্সিলকে জানাতে চাই যে, মিয়ানমার থেকে আসা নতুন কাউকে আর বাংলাদেশে জায়গা দেওয়া সম্ভব নয়।’রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়েমিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি চুক্তি হয়েছে। তবে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়েছে জাতিসংঘ।মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর গত ১৮ মাসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে গত কয়েক দশকে এসেছে আরও চার লাখ রোহিঙ্গা।
 

সব মিলিয়ে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া এসব রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া সংকট খারাপ থেকে আরও খারাপের দিকে গেছে।শহিদুল হক এ বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনায় মিয়ানমার যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেসব ছিল ফাঁকা বুলি। এ বিষয়ে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে দেশটি।পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, ‘একজন রোহিঙ্গাও স্বেচ্ছায় রাখাইনে ফিরে যেতে রাজি হচ্ছে না। কারণ সেখানে তাদের নিরাপদে বসবাস করার মত পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি।মিয়ানমার বলে আসছে, তাদের নাগরিকদের মধ্যে যারা বাংলাদেশে আছে, যাচাই বাছাই করে তাদের ফিরিয়ে নিতে তারা তৈরি আছে।
 

কিন্তু জাতিসংঘ বলছে, মিয়ানমারে এখনও রোহিঙ্গাদের ফেরার মত অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আর রোহিঙ্গারা বলছে, নিরাপত্তার পাশাপাশি নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা পেলেই কেবল তারা সেখানে ফিরে যাওয়ার কথা ভাববে।বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে পশ্চিমা দেশগুলোও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে উল্লেখ করেছে।

জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত কারেন পিয়ার্স বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তারা অত্যন্ত হতাশ। তিনি বলেন, ‘শরণার্থীরা ফিরে যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে এমন পরিবেশ অবশ্যই সেখানে নিশ্চিত করতে হবে।’

কারেন পিয়ার্স আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ওপর যে মাত্রায় নিপীড়ন চালানো হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের যেসব অভিযোগ সেখান থেকে এসেছে, তাতে ওই ঘটনা এ শতকের বর্বরতম ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।’

বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশের রাষ্ট্রদূত নিসরাপত্তা পরিষদের এ অধিবেশনে বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন যেন নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং সম্মানজনক হয়, তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।কোনো শর্ত ছাড়াই জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলকে রাখাইনে গিয়ে তদন্ত করতে দেওয়ার জন্য মিয়ানমারকে চাপ দেওয়ার কথাও তারা বলেন।
 

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে সেনাবাহিনীর অভিযানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আসতে থাকে রোহিঙ্গারা।  মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দেয়। ফলে সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে।ওই বছরের আগস্টে রাখাইনের বেশ কয়েকটি পুলিশ ও সেনা চেকপোস্টে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোতে ব্যাপক অভিযান চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। অভিযানের নামে নির্বিচারে গুলি করে রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ এবং রোহিঙ্গাদের বাড়ি-ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা অনেক দেশ। তবে মিয়ানমার সেসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।