বৃহস্পতিবার ২৩শে মে, ২০১৯ ইং ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

কালীগঞ্জে সরকারী পুকুর দখল ও ভরাটের অভিযোগে মনববন্ধন

আপডেটঃ ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ | মার্চ ০৩, ২০১৯

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালীগঞ্জে সরকারী পুকুর দখল ও মাটি ভরাটের অভিযোগে নাগরী বাজার পরিচালনা পরিষদ, মসজিদ ও কালীমন্দির কমিটি, বাজার ব্যবসায়ী সমিতির যৌথ উদ্যোগে কালীগঞ্জ-উলুখোলা সড়কের নাগরী বাজার সংলগ্ন রাস্তায় বাজারের ব্যবসায়ী, মসজিদের মুসুল্লি, মুক্তিযোদ্ধা, বাজারের দোকান মালিকসহ স্থানীয় ৪ শতাধীক জন সাধারণের বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল শনিবার সকালে নাগরী বাজারের উলুখোলা সড়কে বিশাল মানববন্ধনে গাজীপুর জর্জ কোর্টের এডভোকেট মো. ইকবাল হোসেন এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, নাগরী বাজার পরিচালনা পরিষদ ও বাজার জামে মসজিদ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আলহাজ্ব মো. তমিজ উদ্দিন শিকদার, সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন শাওন, নাগরী ইউনিয়ন মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মো. আখতার উজ্জামান, বাজার কালিমন্দির কমিটির সভাপতি হরিপদ সাহা, সাধারন সম্পাদক আনন্দ কুমার, উপদেষ্টা সদস্য মো. আবুল বাশার, স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. আমির হোসেন, মাওলানা মো. কামরুল ইসলাম ও মাওলানা মো. হযরত আলী প্রমূখ।

বক্তাগণ বলেন, নাগরী বাজারের পার্শ্বের পুকুরটি যুগ যুগ ধরে বাজারের দোকান মালিক, ব্যবসায়ী, ক্রেতা, মসজিদে আগত মুসুল্লি সাধারণ ও কালীমন্দিরের আগত ভক্তগন ব্যবহার করে আসছে। এছাড়াও নাগরী বাজারে বেশ কয়েকবার অগ্নিকান্ড ঘটলে আগুন নিভানোর জন্য ফায়ার সার্ভিসের এই পুকুরের পানিই ছিল একমাত্র সম্বল। পুকুরটিসহ এই মৌজায় ৫৪ শতাংশ জমি রয়েছে। এর মাঝে মিশনের নামে রেকর্ড ২৬ শতাংশ থাকলেও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শণ করে বাকি ২৬ শতাংশ সরকারী জমি তারা দখল করে রেখেছে। স্থানীয় মিশন কর্তৃপক্ষ এই পুকুরটি জনস্বার্থে ব্যবহারের জন্য লীজ চেয়ে গত ১৯৯৪ইং কোর্টে আবেদন করেন। কোর্ট তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মিশনের পক্ষে একতরফা রায় প্রদান করেন।

আমি ওই আদেশের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে সিভিল পিটিশনের মাধ্যমে রিট টু আপিল করি। যা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু মিশন কর্তৃপক্ষ উক্ত সরকারী জমি থেকে গাছ কেটে জমি দখলের চেষ্ঠা করছে। এ বিষয়ে গত ২ ফেব্রæয়ারী ১৯ তারিখে পুকুরটির রক্ষনাবেক্ষনের দায়ীত্ব চেয়ে জেলা প্রশাসক গাজীপুর বরাবরে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসন কেন নিরব ভুমিকা পালন করছেন তা বুঝতে পারছি না। তিনি আরো বলেন, পানজোরা মৌজার ৪/৫টি পুকুর জন সাধারনের ব্যবহার করার কথা থাকলেও তারা তা বিক্রি করে দিয়েছে। যার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করা হয়েছে।

আদালত সেখানে ভরাট ও স্থাপনা র্নিমানে স্খগিতাদেশ করেছে। এ চক্রটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর রুপগঞ্জ ও কালীগঞ্জ বেড়ীবাধের জমির উপর প্রায় ৪০টি দোকান ঘর নির্মান করে তা ভাড়া আদায় করে আসছে। পানজোরা বালিকা বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নিজেদের ঋণদান সমিতি স্থাপন করে। শুধু তাই নয় তারা ওই স্কুলের সামনের রাস্তার পাশে থাকা জমির উপর মার্কেট বানানোর জন্য ২ শতাংশ জমি নিজেদের নামে নেয়। অন্যদিকে রাস্তা থেকে ১ শতাংশ ও উত্তর পাশের পুকুর থেকে ১ শতাংশ জমি তার বিনিময় করা হয় যা সর্ম্পূণ অবৈধ। নাগরী মিশন কর্মকর্তারা সরকারী জমি দখলের প্রতিযোগীতায় নেমেছে। তাদের বিরুদ্ধে তৈরী হচ্ছে অভিযোগের পাহাড়। বিশাল মানববন্ধনের কারণে রাস্তার দু’পাশের ব্যস্ততম রাস্তায় বিরাট যানজটের সৃষ্টি হয়।