সোমবার ২৭শে মে, ২০১৯ ইং ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

গাজীপুরে শাশুড়ি খুনের ঘটনায় ছেলের বউ-সহ গ্রেপ্তার ৩

আপডেটঃ ১:৫২ পূর্বাহ্ণ | এপ্রিল ১৬, ২০১৯

গাজীপুর প্রতিবেদক : গাজীপুর মহানগরীর গজারিয়াপাড়া এলাকার আলেয়া বেগম (৫০) নামের এক নারী খুনের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১। রবিবার গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো আলেয়ার ছেলে বউ ইসরাত জাহান লিজা (২৩) এবং লিজার দুই মামা মো. আমির হোসেন (৩৫) এবং মো. নূর হোসেন (৩২)।

গাজীপুরের পোড়াবাড়ী র‍্যাব-১- এর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ভিকটিমের ছেলে আরিফ হোসেন আসামির স্ত্রী মোছাঃ তাহমিনা আক্তার লিজা (২৪) সে তার শশুর বাড়িতে বসবাস করতো। আসামি মোঃ আমির হোসেন (৩৫) ও মোঃ নুর হোসেন (২৯) আপন দুই ভাই ও ভিকটিমের ছেলের মামা শ্বশুর। তার মা গাজীপুর ন্যাশনাল পার্কে চাকরি করার সুবাদে ন্যাশনাল পার্কের ভিতর বসবাস করতেন।
ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, পারিবারিক ও ন্যাশনাল পার্কের ভিতরে দোকান নিয়ে ব্যবসায়ীক লেনদেনকে কেন্দ্র করে গত ৯এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ভিকটিম নিজ বাড়ি হতে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে গরু আনতে গেলে উল্লেখিত আসামিরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিমকে অপহরণ করে প্রথমে শ্বাসরোধ ও পরে গলা-পেট কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে আলেয়ার লাশ জঙ্গলে লুকিয়ে রাখে এবং গত ১১ এপ্রিল লাশটি বাড়ির পিছনে পরিত্যক্ত পুকুরে ফেলে দেয়। পরদিন ১২ এপ্রিল লাশ উদ্ধার হয়।ভিকটিমের স্বামী মোঃ জসিম উদ্দিন জিএমপি গাজীপুর সদর থানায় উক্ত তিনজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

২২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ মোশারফ হোসেন জানান, আলেয়া বেগম গত ৯ এপ্রিল বিকেলে মাঠ থেকে গরু আনার উদ্যেশে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। সম্ভাব্য সব স্থানে তাকে খুঁজে না পেয়ে স্বামী জসিম উদ্দিন পরদিন (১০ এপ্রিল) গাজীপুর মহানগরের সদর থানায় জিডি করেন। শুক্রবার দুপুরে এলাকাবাসী স্থানীয় একটি পুকুরে আলেয়ার লাশ দেখতে পেয়ে সদর থানা ও র‍্যাাব অফিসে খবর দেয়।
নিহতের স্বামী জসীম উদ্দীনের দাবি, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ন্যাশনাল পার্কের দোকানের ব্যবসা নিয়ে শশুর- শাশুড়ির সঙ্গে লিজার কথা কাটাকাটি হয়। পরে লিজা ওই দিন তার মামা আমির হোসেন ও নূর হোসেনকে শ্বশুর বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে তারা জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী আলেয়াকে পার্কের দোকানের ব‍্যবসা ছেড়ে চলে যেতে বলে। তা না হলে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে চলে যায়।