বৃহস্পতিবার ২৫শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং ১২ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

পূর্বধলায় বিদ্যুৎ নতুন-সংযোগ দেয়ার নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ

আপডেটঃ ৪:৩২ পূর্বাহ্ণ | এপ্রিল ১৭, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক :নেত্রকোণা:নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলার বিশকাকুনী ইউনিয়নের বড়রুহী গ্রামে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নতুন-সংযোগ দেয়ার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটি স্থাপনের পূর্বেই স্থানীয় একটি চক্র গ্রাহকদের কাছ থেকে মিটার প্রতি সাড়ে ৩ হাজার টাকা ও শ্রমিকদের ভরণ-পোষনের জন্য গ্রাহক প্রতি আড়াই কেজি চাল ও ৫০ টাকা করে বাড়তি আদায় করছে। বিগত ২০১৭ সালে ওই গ্রামে বিদ্যুতায়নের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গত কয়েকদিন ধরে খুঁটি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুত সমিতির আওতায় পূর্বধলার বিশকাকুনী ইউনিয়নের বড়রুহী গ্রামে ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর প্যাকেজ নং-১৫৪/৩, লটনং-৩০৭৪ এর কার্যাদেশ দেয়া হয়। ওই প্রকল্পে বিদ্যুতের সাধারন গ্রাহক রয়েছেন ৪১৭ জন। এর মধ্যে ২৫ জন রয়েছেন সেচ গ্রাহক। পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি কিছুদিন পূর্বে বড়রুহী গ্রামে পৌছলে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পরিষদ কার্যনির্বাহী সংসদ ময়মনসিংহ জেলা শাখার সদস্য বড়রুহী গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম, একই গ্রামের ইকবাল মিয়া ও ওলামালীগ নেতা আবদুর রহিম সাধারন গ্রাহকদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে টাকা আদায় করছেন। গত ২৩ মার্চ উপজেলার বড়রুহী পশ্চিমপাড়া মসজিদের সামনে বিদ্যুতের বিষয়াদি নিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে তাদের আলোচনায় তিন কিস্তিতে মিটার প্রতি সাড়ে ৩ হাজার টাকা এবং সহকারী ঠিকাদার আবদুল মোমেনের সকল শ্রমিকের ভরন-পোষনের জন্য গ্রাহক প্রতি আড়াই কেজি চাল নগদ ৫০টাকা করে বাড়তি আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শেখ হাসিনার উদ্যোগ-ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেয়ার নির্দেশনাকে সামনে রেখে বড়রুহী গ্রামে চলছে সংযোগ দেয়ার নামে টাকা আদায়। সংশ্লিষ্ট অফিসের লোকজনের যোগসাজসে তদবিরকারীরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

বড়রুহী গ্রামের কফিল উদ্দিন, মাওলানা শহীদ, এমদাদুল হকসহ একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, মসজিদের সামনের মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা প্রথম কিস্তির ১ হাজার টাকা, দুই খুচি চালসহ বাড়তি ৫০ টাকাও গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম, মো. ইকবাল মিয়া ও আবদুর রহিমের মাধ্যমে জমা দিয়েছি।

মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পরিষদ কার্যনির্বাহী সংসদ ময়মনসিংহ জেলা শাখার সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গ্রামে বিদ্যুতের কাজ করা হচ্ছে। ভালভাবে এবং তাড়াতাড়ি কাজ করতে গেলে কিছু খরচ করতে হয়। অফিসের লোকজন বলে টাকা লাগে না তারপরও তাদেরকে কিছু দিতে হয়। তা না হলে অফিসের লোকজন ঠিকমত কাজ করে না। গ্রামের ইকবাল, আবদুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে আমি ইতিপূর্বে মিনিষ্ট্রিতে পর্যন্ত তদবীর করে আমাদের গ্রামের বিদ্যুতের কাজটি শুরু করেছি। পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের মিটার এবং ওয়ারিংয়ের জন্য অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নিয়ে আমরা ১ হাজার টাকা করে নিয়েছি। সহকারী ঠিকাদার আবদুল মোমেনের শ্রমিকদের ভরন-পোষনের বাড়তি দায়িত্ব যদি আমরা না নেই তাহলে সে আমাদের বিদ্যুতের কাজ ঝুলিয়ে দিয়ে শ্রমিকদের অন্যত্র পাঠিয়ে দিতে পাড়েন। তাই আমাদের গ্রামের গ্রাহকরা সকলেই আনন্দের সঙ্গে আড়াই কেজি করে চাল ও ৫০ টাকা জমা দিচ্ছেন। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে আমাদের গ্রামে বিদ্যুতের কাজ শেষ হয়ে যাবে। আমরা গ্রামে দ্রুত বিদ্যুতায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

ওলামালীগ নেতা আবদুর রহিম বলেন, মসজিদের সামনে বিদ্যুতের মিটিংয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে গ্রাহক প্রতি সাড়ে ৩ হাজার টাকা খরচ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। এটি কোন কার্যকরী সিদ্ধান্ত নয়। মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পরিষদ নেতা মো. রফিকুল ইসলাম, মো. ইকবাল মিয়াসহ আমি গ্রামের বিদ্যুতের জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিশ্রম করে যাচ্ছি। গ্রাহকদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে খরচ তোলা হচ্ছে।

নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুত সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মজিবুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার উদ্যোগ-ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ এই স্লোগানকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পূর্বধলা উপজেলা চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়ন কাজ সম্পন্ন করা হবে। বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে সাধারন গ্রাহকদের কোন ধরনের দালাল-তদবীরবাজদের শ্মরনাপন্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে প্রতারণার শিকার না হওয়ার জন্য জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। সংযোগের কথা বলে কেউ যদি গ্রাহকদের প্রতারিত করে, তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ অথবা পুলিশের স্মরনাপন্ন হওয়ার জন্য গ্রহকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।